নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র রমজান উপলক্ষে টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগে অধিকাংশ পণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ ও নিম্ন আয়ের ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ফলে রোজার সাথে যুক্ত হয়েছে বাড়তি ব্যয়ের উদ্বেগও।
রমজান শুরুর পর শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। ইফতারের অপরিহার্য উপকরণ লেবু, শসা ও বেগুনসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা।
শহরের পার্ক বাজার, ছয়আনী বাজার, সিটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রোজার শুরুর দিনে থেকে কেনাকাটায় ক্রেতাদের ভিড় বাড়লেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং অধিকাংশ পণ্যের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় আরো বেড়েছে। বাজারে লেবু বিক্রি হচ্ছে আকার ও মানভেদে ৮০ থেকে ১৪০ টাকা হালি। তবে বড় আকারের একটি লেবু পাইকারিতে ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় খুচরায় সেই লেবুর হালি দাঁড়াচ্ছে ১৬০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কম এবং চাহিদা বেশি থাকায় দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে শসা কেজি-প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়। দেশী শসার দাম ১৪০ টাকা এবং হাইব্রিড ১০০ টাকা কেজি। বাজারে শসার সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় দাম বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ক্ষিরা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে। ইফতার-সামগ্রী তৈরিতে বাজারে বেগুনের চাহিদা বেড়ে যায়। বেগুনের সরবরাহ মোটামুটি থাকলেও দাম কমেনি। কেজি-প্রতি ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বেগুন।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে কেজি-প্রতি ৬৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের তরমুজ পুরোপুরি বাজারে এলে দাম কিছুটা কমতে পারে। ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ খেজুর সর্বনিম্ন ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। উন্নতমানের খেজুরের দাম প্রকারভেদে পনেরশত থেকে দুই হাজার টাকারও বেশি। তবে ৫০০ থেকে ৭০০ এবং এক হাজার থেকে বারশত টাকা কেজি দরের খেজুরের চাহিদাই বেশি। আমদানি নির্ভর এই পণ্যের ক্ষেত্রে ডলার মূল্য ও আমদানি ব্যয়ের প্রভাব রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া, নতুন ওঠা স্ট্রবেরি কেজি-প্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। পেঁপে ১৪০ টাকা কেজি, বাঙ্গি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা পিস এবং পেয়ারা ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য ফলের দামও আগের চেয়ে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি।
সবজির পাশাপাশি মসলা জাতীয় পণ্যেও ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। পাইকারিতে পেঁয়াজ ২৭০ টাকা পাল্লা, যা কেজিতে প্রায় ৫৪ টাকা হলেও খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি। রসুন পাইকারি ২০০ এবং আদা ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলু পাইকারি ৯০ টাকা পাল্লা হলেও খুচরায় দাম বেশি। রোজার অপরিহার্য পণ্য ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৮০ থেকে ১১০ টাকায়। চিনি ১০০ থেকে ১১০ টাকা, মুড়ি ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি এবং হাতেভাজা ১৬০ টাকা কেজি। সয়াবিন তেল লিটার-প্রতি ১৯৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবমিলিয়ে রোজার বাজারে প্রায় সব নিত্যপণ্যের দামই বাড়তি।
ফল কিনতে আসা চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, রমজানে কিছু ফল কিনতে এসেছি; কিন্তু দাম এত বেশি যে প্রয়োজনের অর্ধেকও কেনা যাচ্ছে না। তরমুজের কেজি ৯০ টাকা, এভাবে চললে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হবে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহন ব্যয়, আড়তদারি কমিশন ও সংরক্ষণ খরচ বাড়ায় খুচরায় তার প্রভাব পড়ছে। তবে রোজাকে ঘিরে একটি শ্রেণী অতি মুনাফার আশায় দাম বাড়িয়ে দেয় অভিযোগ তুলে ক্রেতারা বলেন, রোজা এলেই বাজারে আগুন লাগে। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রমজানকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই চাহিদা বাড়ে; কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ও দুর্বল বাজার তদারকির কারণে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। নিয়মিত মনিটরিং ও বাজারে সরাসরি অভিযান জোরদার করা না হলে এই প্রবণতা বন্ধ করা কঠিন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রভাব খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। ভোক্তারা বলছেন, কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রোজার পুরো মাসজুড়েই মূল্যচাপ অব্যাহত থাকবে।