নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল জেলার আলাদা দুটি সংসদীয় আসন থেকে আপন দুই ভাই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। টাঙ্গাইলের ৮টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে তারা নির্বাচিত হন। দুই ভাইয়ের এই সাফল্যে এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে খুশির জোয়ার বইছে।
তারা হলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু এবং তার ছোট ভাই টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, আবদুস সালাম জেলার ৮টি আসনের ৪৭ জন প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি সর্বোচ্চ ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হুমায়ুন কবীর পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট।
অপরদিকে সুলতান সালাউদ্দিন ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আহসান হাবিব মাসুদ পেয়েছেন ৮০ হাজার ৮২৩ জন।
আব্দুস সালাম পিন্টু ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গ্রেফতার হন। পরবর্তী সময়ে এই মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে তিনি এ মামলায় খালাস পান। অপরদিকে সুলতানা সালাউদ্দিন টুকু একাধিক মামলার আসামি হয়ে কারাভোগ করেছেন।
আবদুস সালাম পিন্টু এর আগে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া তিনি উপমন্ত্রীও ছিলেন। আর সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এ বিজয় টাঙ্গাইলবাসীর। আমি আমার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবো। সকলে মিলে আমরা কাজ করতে চাই।
জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, এবার সংসদ নির্বাচনে আবদুস সালাম পিন্টু ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ছাড়া এক পরিবার থেকে দুজন সংসদ সদস্য আর কেউ নির্বাচিত হননি। তাঁরা দুইভাই দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আবদুস সালাম পিন্টুকে দীর্ঘ ১৭ বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। সুলতান সালাউদ্দিন টুকুও বিগত আওয়ামী লীগ আমলে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেক নির্যাতন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। তাঁদের ত্যাগের কারণেই দল তাঁদের মূল্যায়ন করেছে।