মির্জাপুর প্রতিনিধি: মির্জাপুর পৌরসভার কাঁচাবাজারের মাংসের দোকানের বর্জ্যে শহরজুড়ে দূষণ ছড়াচ্ছে। জবাই করা গরু, ছাগল ও মুরগির বর্জ্যের পচা দুর্গন্ধ পরিবেশের মারাত্মকভাবে ক্ষতি করছে। এই দুর্গন্ধে মির্জাপুর বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী এবং মূল শহরে বসবাসকারী পৌরবাসী এখন অতিষ্ঠ।
জানা গেছে, নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে মির্জাপুর পৌরসভা গঠিত। কুমুদিনী হাসপাতাল ক্যাম্পাসসহ পৌরসভার মূল শহরের অবস্থান হলো দুই ও তিন নম্বর ওয়ার্ডে। এরমধ্যে মির্জাপুর বাজার এলাকায় অবস্থিত তিন নম্বর ওয়ার্ডটি হলো শহরের সবচেয়ে ঘনবসতি এলাকা। এই তিন নম্বর ওয়ার্ডেই মির্জপুর কাঁচাবাজারের অবস্থান।
মির্জাপুর পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত বাজারে পাকা টিনশেড ৭ থেকে ৮টি ভবনে রয়েছে সবজি, মাছ, মুরগি, গরুর মাংস ও মাছের বাজার। এছাড়া মাংস ও ডিম বাজারজাত করার জন্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ওয়াশ ব্লকসহ ৪টি টিনশেড পাকা ভবন নির্মাণ করে পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করেছে। তবে নির্মিত এই নতুন ভবন ব্যবসায়ীদের কাছে এখনো রবাদ্দ দেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। কাঁচাবাজারের কয়েকটি শেডজুড়ে রয়েছে গরু, ছাগল ও মুরগির মাংসের দোকান। এর বাইরেও বেশ কয়েকটি যত্রতত্রভাবে মুরগির দোকান বসিয়েছে দোকানিরা।
এই কাঁচাবাজারের গরু, ছাগল ও মুরগির মাংসের দোকানিরা জবাই করা গরু, ছাগল ও মুরগির বর্জ্য মার্কেট শেডের পাশে যত্রতত্রভাবে নিক্ষেপ করছেন। এই বর্জ্য পচে মূল শহরে পরিবেশ দূষণ করে বিষ ছড়াচ্ছে। একই সঙ্গে দূষণ ছড়াচ্ছে কাঁচাবাজারের খোলা পায়খানা। পায়খানাটির মল বাইরে ছড়িয়ে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ করছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
বর্জ্য ও পায়খানার পচা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে কাঁচাবাজারের শেডের কাপড় ব্যবসায়ীরা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও ফল পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের, মিনহাজ উদ্দিন ও নারায়ণ রায় জানান, কাঁচাবাজারের মাংসের বর্জ্য ও পায়খানার দুর্গন্ধে ক্রেতা আসতে চায় না। এই পচা দুর্গন্ধে তারা নিজেরাও অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানান।
মির্জাপুর বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম ফারুক সিদ্দিকী বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও তারা এ বিষয়ে কোনো খেয়াল রাখছে না। এই দুর্গন্ধে বাসাবাড়ির লোকজনও অতিষ্ঠ বলে তিনি জানান।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মির্জাপুর পৌরসভার প্রশাসক তারেক আজিজ বলেন, কাঁচাবাজারের শেড সংলগ্ন জায়গায় যাতে কেউ বর্জ্য ফেলতে না পারে সে জন্য প্যালাসাইডিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া, শেডের চারপাশ আটকিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।