নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, গণভোটের প্রচারণার দায়িত্ব সরকারের একার নয়, এ দায়িত্ব সকল রাজনৈতিক দলেরও। উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্য দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগে গণভোটের প্রচারণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী ২২ জানুয়ারির পর থেকে এ প্রচারণা গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।
সোমবার, ১৯ জানুয়ারি সকালে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে গণভোট প্রচারণার ভোটের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো দল নেই, কোনো প্রার্থী নেই। সুতরাং সবাই আমাদের প্রার্থী। একটি উৎসবমুখর পরিবেশে নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আরও বলেন, এ নির্বাচন আগের যে কোনও নির্বাচনের মতো নয়। এটি জাতি হিসেবে আমাদের জন্য দিকনির্দেশনা দেবে এবং একটি নতুন পথের সন্ধান দিবে।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কারও পরামর্শে, নির্দেশনায় বা ইচ্ছায় নয়— নিজের ইচ্ছায় পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। এর ফলে আমরা একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার পাব, যারা জনগণের প্রভু নয়, বরং জনগণের প্রতিনিধি ও খাদেম হবে।
এ সময় ফাওজুল কবির খান আরও বলেন, আমরা দেশে আর গুম-খুন চাই না। এক ব্যক্তির শাসন থেকে আমাদের সরে আসতে হবে। আমরা রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার চাই। কেউ যদি মনে করেন যে আগেরটাই ঠিক ছিল। কেউ যদি মনে করেন যে গুম, খুন ঠিক ছিল, বিরোধী দলের লোক বাড়িতে থাকতে পারবে না— তাহলে ‘না’ ভোট দেবেন, আর যদি সংস্কার, পরিবর্তন ও বিচারব্যবস্থার উন্নতি চান, তাহলে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন।
এলপিজি গ্যাস সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় সমুদ্রে জাহাজ সংকটের ফলে এলপিজি আমদানি সময়মতো না আসায় সংকট দেখা দিয়েছে। অতিদ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মহন্ত কুমার মহন্ত, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়া, জেলার বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সাধারণ ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।